যে বিড়ালটি তারা গুনত
যে বিড়ালটি তারা গুনত চৌদ্দ বছর বয়সে রাফির মনে হতো, পৃথিবী যেন আগেই ঠিক করে দিয়েছে সে কে—শান্ত, সাধারণ, ভুলে যাওয়ার মতো। স্কুল ছিল কেবলই কিছু ক্লাস আর প্রত্যাশার এক ঝাপসা স্মৃতি, যা সে কখনোই ঠিকমতো পূরণ করতে পারত না। কিন্তু সবকিছু পাল্টে যেতে শুরু করল সেই রাতে, যখন একটি পথভোলা বিড়াল তার ছাদে এসে হাজির হলো। বিড়ালটা ছিল ধূসর রঙের, একটা কান ছেঁড়া আর চোখ দুটোকে দেখলে প্রায়... চিন্তাশীল মনে হতো। রাফি তার নাম রাখল ওরিয়ন, বিজ্ঞান ক্লাসে সদ্য শেখা নক্ষত্রপুঞ্জটির নামে। এরপর থেকে প্রতি রাতে রাফি ছাদে উঠত। ওরিয়ন আগে থেকেই সেখানে থাকত, এমনভাবে বসে থাকত যেন জায়গাটা তারই, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। “তুমিও তারা ভালোবাসো?” একদিন সন্ধ্যায় রাফি জিজ্ঞেস করল। ওরিয়ন ধীরে ধীরে পলক ফেলল, তারপর একটা নরম ‘ম্রর্প’ শব্দ করল। রাফি হেসে উঠল। “একই।” এটা তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেল। রাফি তার সারাদিনের কথা বলত—কীভাবে সে গণিতের পরীক্ষায় গণ্ডগোল পাকিয়েছে, কীভাবে তার বন্ধুদের আর আগের মতো বন্ধু মনে হয় না, আর সে কোন বিষয়ে ভালো তা নিয়ে নিশ্চিত নয়। ওরিয়ন শুধু তার পাশে উষ্ণ আর স্থির হয়ে বসে ...